মা-মেয়েকে বাঁচালেন, কিন্ত বাঁচতে পারলেন না রেলকর্মী

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ বিডি ডট কম,নিজস্ব প্রতিনিধি,২৮ জানুয়ারি : রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডে রেল ক্রসিংয়ে মা এবং মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারালেন রেলওয়ের কর্মচারী বাদল মিয়া (৫৮)। শুক্রবার দুপুর ১ টায় এ ঘটনা ঘটে। বাদল মিয়া বাংলাদেশ রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মচারী (ক্যান্টেনমেন্ট গ্যাং নম্বর-৭৬)। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুপুর ১ টায় রেলওয়ের লাইন মেরামত করছিলেন বাদল মিয়া। তখন ৫ বছরের একটি শিশুকে নিয়ে এক মা রেল লাইন পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী সুরমা এক্সপ্রেসের ট্রেনে প্রায় কাটা পড়তে যাচ্ছিলেন ওই মা ও মেয়ে।

এ সময় বাদল দৌড়ে গিয়ে শিশুটির মাকে বাঁচান। তবে শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়েন বাদল। মারা যাওয়ার আগে অবশ্য শিশুটিকেও বাঁচিয়ে যান তিনি।

বাদলের সহকর্মী সোহেল বলেন, আমরা ২০ জন রেললাইন মেরামতের কাজ করছিলাম। ট্রেনের সংকেত পেয়ে সরে যাই। কিন্তু বোরকা পড়া এক নারী ও কমলা জামা পড়া এক শিশু না দেখেই ট্রেনের লাইনের উপর দাঁড়িয়ে ছিল। পাশে এক পথচারী তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, ওই নারী মাটিতে পড়ে গেলেও শিশুটি না বুঝে দৌড়ে আবারও ট্রেনের লাইনে চলে যায়। তখন বাদল মিয়া শিশুটিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। তবে ট্রেনের গতির কারণে তিনি আর লাইন থেকে বের হতে পারেননি। এ ঘটনার পর ওই নারী ও শিশুকে আর এ এলাকায় তারা দেখতে পাননি বলে জানান।

৫ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক বাদল মিয়া দক্ষিণখানের কাউলা এলাকায় একটি ঝুপড়িতে থাকতো। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলের বিয়ে হলেও বাকিরা বাদল মিয়ার উপার্জনের উপরই নির্ভরশীল ছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে বাদল মিয়ার মরদেহ নিতে আসা তার ছোট ভাই সিদ্দিকুর রহমান আবুল বলেন, ভাইয়ার মৃত্যুর খবর শুনে ভাবি (বাদলের স্ত্রী আয়েশা খাতুন) বাকরুদ্ধ। একটু পর পর কেঁদে উঠছেন। ময়নাতদন্তের জন্য বাদল মিয়ার মরদেহ ঢামেকের মর্গে রাখা হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY