তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন খালেদার

SHARE

khaleda_119753_119761ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ বিডি ডট কম,আদালত প্রতিনিধি,১০ জানুয়ারি : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  আজ বুধবার দুপুরে আদালত চলাকালে তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মাদ আলী এ আবেদন জমা দেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নথি জালিয়াতি করে খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদসহ সংশ্লিষ্টরা। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এর আগে বুধবার জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে যান তিনি। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশে তিনি রওনা হন বলে জানান তার প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্কের জন্য ১০ ও ১১ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে সপ্তম দিনের মতো যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে মামলা দুটির কার্যক্রম চলছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন খালেদার
গত ৪ জানুয়ারি বিএনপি প্রধান খালেদার পক্ষে তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন— মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY